Skip to main content

Posts

Showing posts from July, 2026

😄 ইমোজির ফাঁদে

😄 ইমোজির ফাঁদে একটি রম্য রচনা এক সময় মানুষ চিঠি লিখত। চিঠির শেষে থাকত—"ইতি, তোমারই..."। সেই চিঠিতে থাকত মনের কথা, অপেক্ষার গন্ধ, আর অনুভূতির উষ্ণতা। এখন আর সে ঝামেলা নেই। এখন শুধু একটা ❤️, 😘, 👍 বা 🙏 পাঠিয়ে দিলেই যেন সব দায়িত্ব শেষ। মনে হয়, বাংলা ভাষার অবসর হয়ে গেছে, আর তার জায়গায় চাকরিতে যোগ দিয়েছে ইমোজি মহাশয়! আজকাল মানুষ কথা কম বলে, মুখ বেশি দেখায়। অবশ্য নিজের মুখ নয়—হলুদ রঙের গোলগাল মুখ। সেই মুখ কখনও হাসে 😂, কখনও কাঁদে 😭, কখনও রাগে 😡, আবার কখনও এমনভাবে চোখ টিপে 😉 যে বোঝাই যায় না—এটা মজা, না ষড়যন্ত্র! স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরাও ইমোজির বড় ভক্ত। রেজাল্টের দিন বন্ধুকে মেসেজ করল—"কীরে, কেমন হলো?" উত্তর এলো শুধু 😭। বন্ধু ভাবল, নির্ঘাত ফেল করেছে! সমবেদনা জানাতে ছুটে গেল। পরে জানা গেল, ছেলেটা A+ পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেছে। তখন বোঝা গেল, ইমোজির কান্না সব সময় দুঃখের নয়—মাঝে মাঝে সেটা আনন্দেরও হতে পারে। কিন্তু সেটা বুঝবে কে? প্রেমের জগতে ইমোজির কদর আরও বেশি। আগে প্রেমপত্র লিখতে সাত পৃষ্ঠা লাগত। এখন শুধু একটা ❤️ পাঠিয়ে দিলেই প্র...

🚿 বাথরুমের রহস্য বেচারা স্বামীর ডায়েরি

  ঘড়িতে সকাল আটটা। নয়টা ৩০ লোকাল। মিস হলে বসের চোখে আজকের দিনটা "জাতীয় শোক দিবস" ঘোষণা হয়ে যাবে। স্বামী বীরদর্পে বললেন— — "আমি পাঁচ মিনিটে ফ্রেশ হয়ে আসছি।" ঠিক পাঁচ মিনিটেই বেরিয়ে এলেন। চুল ভিজেছে কি না, সেটা নিয়ে সন্দেহ থাকতে পারে, কিন্তু মানুষটা বেরিয়ে এসেছেন—এটাই বড় কথা। বেরিয়েই একটু গলা খাঁকারি দিয়ে বললেন— — "দেখলে? স্নান করতে ইচ্ছে লাগে, সময় নয়।" স্ত্রী আয়নার সামনে চুল বেঁধে শান্ত গলায় বললেন— — "আমি স্নান সেরে এক্ষুনি আসছি।" এই "এক্ষুনি" শব্দটার অভিধান এখনও পর্যন্ত কোনো ভাষাবিদ লিখে শেষ করতে পারেননি। কারণ এর দৈর্ঘ্য পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়—কখনও আধঘণ্টা, কখনও এক ঘণ্টা, আবার বিশেষ বিশেষ দিনে দেড় ঘণ্টাও হতে পারে! দরজা বন্ধ। ট্যাপের শব্দ। মাঝে মাঝে গুনগুন করে গান। মনে হচ্ছে বাথরুম নয়, পাঁচতারা স্পা। এদিকে বাইরে বাস্তব পৃথিবী। কোলের বাবু ঘোষণা করেছে— "আমি এখনই কাঁদব!" চুলার দুধ ঘোষণা করেছে— "আমি এখনই উথলাব!" অফিসের বস ঘোষণা করেছেন— "আর পাঁচ মিনি...
পর্ব – ৮ : বিবেকের সামনে বৃষ্টিটা তখনও ঝিরঝির করে পড়ছে। সোহিনী ছাতাটা একটু অনির্বাণের দিকেও বাড়িয়ে দিল। অনির্বাণ সাইকেলটা পাশে নিয়ে ধীরে ধীরে হাঁটতে লাগল। প্রথম কয়েক মুহূর্ত দু'জনেই চুপ। নীরবতাটা ভাঙল সোহিনী। — অফিস কেমন চলছে? অনির্বাণ হেসে বলল— — ভালোই। সরকারি চাকরিতে কাজের শেষ নেই। তবে মানুষের কাজ করতে পারলে ক্লান্তিটাও আলাদা লাগে না। সোহিনী মাথা নাড়ল। — আজকাল সরকারি চাকরি পাওয়াই তো বড় যুদ্ধ। অনির্বাণ হালকা হেসে বলল— — চাকরি পাওয়ার লড়াই শেষ হয়, কিন্তু দায়িত্বের লড়াই তখনই শুরু হয়। সোহিনী মুগ্ধ চোখে তার দিকে তাকাল। ঠিক তখনই অনির্বাণের চোখ পড়ল রাস্তার দু'পাশে। বাজার থেকে ফিরছেন অনেকেই। কেউ সাইকেলে। কেউ হেঁটে। কয়েকজন তাদের দিকে একবার তাকিয়েও নিল। অনির্বাণের ভেতরে হালকা একটা অস্বস্তি কাজ করল। হঠাৎ তার মনে পড়ে গেল— সেই পরিচয়পত্র। সেদিন স্টেশনে সোহিনীকে বাড়ি পৌঁছে দিতে গিয়ে অসাবধানতায় তার অফিসের পরিচয়পত্রটি সোহিনীর হাতে চলে গিয়েছিল। সেই সূত্রেই আজ সে তাকে নাম ধরে ডাকতে পেরেছে। ...
পর্ব – ৭ : আবার দেখা অনির্বাণ থেমে পিছন ফিরে তাকাল। বৃষ্টির জল ঝাপসা পর্দার মতো নেমে আসছে। ছাতার নিচে দাঁড়িয়ে থাকা তরুণীটি আবার মৃদু হেসে বলল— — অনির্বাণবাবু... চিনতে পারছেন না? অনির্বাণ কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। মুখটা বড় চেনা লাগছে। কিন্তু কোথায় দেখেছে, কিছুতেই মনে করতে পারছে না। মেয়েটি এবার হেসে ফেলল। — সেদিন স্টেশনে খুব বৃষ্টি হচ্ছিল... মনে আছে? কথাটা শেষ হতেই অনির্বাণের মনে যেন হঠাৎ বিদ্যুতের ঝলকানি খেলল। সেই রাত... ঝড়-বৃষ্টি... ফাঁকা স্টেশন... আর এক অসহায় তরুণীকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ঘটনা। সে অবাক হয়ে বলল— — ও... আপনি! সত্যিই চিনতে পারিনি। মেয়েটি মিষ্টি করে হেসে বলল— — চিনবেনই বা কী করে? সেদিন তো বৃষ্টির মধ্যে ঠিকমতো মুখই দেখতে পাননি। আজ তাকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। হালকা নীল রঙের চুড়িদার। কাঁধে ছোট্ট একটি ব্যাগ। ভেজা বাতাসে কয়েক গোছা চুল মুখের ওপর এসে পড়েছে। মুখে কোনো বাড়তি সাজ নেই। তবুও এক অদ্ভুত স্বাভাবিক সৌন্দর্য যেন তাকে আলাদা করে চিনিয়ে দেয়। অনির্বাণ মনে মনে ভাবল— সেদিন বৃষ্টির অন্ধ...
পর্ব – ৬ : বৃষ্টির আটচালা আকাশের দিকে তাকিয়ে অনির্বাণ বুঝল, এই বৃষ্টি এত সহজে থামার নয়। মুহূর্তের মধ্যেই ঝমঝমিয়ে নেমে এল বর্ষা। টিনের চালের ওপর বৃষ্টির শব্দ যেন একটানা তবলার তালে বাজতে লাগল। অনির্বাণ সাইকেলটা পাশে রেখে বন্ধ দোকানের আটচালার নিচে দাঁড়িয়ে রইল। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ ভিজে গামছা নিংড়াচ্ছেন। কেউ মোবাইল ফোনে রিল দেখে হেসে উঠছেন। দু-একজন চুপচাপ বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে। আর এক কোণে চার-পাঁচজন ভদ্রলোক বেশ জমিয়ে রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করছেন। — দেশটার আর কিছু হবে না। — সব দোষ সরকারের। — আরে না না, আগের সরকার থাকলেও একই হতো। — ভোটের সময় সবাই বড় বড় কথা বলে। তারপর কেউ আর মানুষকে মনে রাখে না। কথার সঙ্গে সঙ্গে হাতও নাড়ছে। কখনও গলার স্বর উঁচু হচ্ছে। কখনও সবাই একসঙ্গে কথা বলছে। দেখলে মনে হবে, এই আটচালাতেই বুঝি দেশের ভবিষ্যৎ ঠিক হয়ে যাবে। অনির্বাণ মৃদু হেসে মাথা নিচু করল। রাজনীতি সম্পর্কে তার নিজস্ব মতামত অবশ্যই আছে। কিন্তু সে অকারণ তর্কে বিশ্বাস করে না। ছোটবেলা থেকেই সে শিখেছে— কথ...
পর্ব – ৫ : মাছের বাজার মাছের বাজারে ঢুকতেই যেন আরেকটা আলাদা জগৎ। চারদিকে বরফের ওপর সারি সারি মাছ। ইলিশ, কাতলা, রুই, পাবদা, ট্যাংরা, শোল, বোয়াল, গলদা চিংড়ি— যেদিকে চোখ যায় শুধু মাছ আর মাছ। মাছওয়ালাদের হাঁকডাকে পুরো বাজার মুখর। — এই যে দাদা... আজকের ইলিশ দেখে যান! — পাবদা নিন... একেবারে নদীর মাছ! — গলদা চিংড়ি... একবার দাম শুনে যান! অনির্বাণ অবশ্য জানে— সব ডাকের উত্তর দিতে নেই। একবার দাঁড়ালেই আর ছাড়া পাওয়া মুশকিল। সে ধীরে ধীরে কয়েকটা দোকান ঘুরে দাম জিজ্ঞেস করতে লাগল। ছোটবেলা থেকেই বাবার কাছেই শিখেছে— বাজারে কখনও প্রথম দোকান থেকেই কিছু কিনতে নেই। দুই-চারটে দোকান ঘুরে তবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আজ বাবার কথাই বেশি মনে পড়ছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাবার শরীরটাও আগের মতো নেই। ডাক্তার তেল-মশলা কম খেতে বলেছেন। তাই আজ সে ঠিক করেই বেরিয়েছে— বাবার জন্য পাবদা মাছ নেবে। একটা দোকানে দাঁড়াতেই মাছওয়ালা হেসে বলল— — দাদা, আজ কী দেব? অনির্বাণ মাছগুলো একটু উল্টেপাল্টে দেখে বলল— — তিন পিস পাবদা কেটে দিন। একটু ছোট সাইজে...
পর্ব – ৪ : মানুষ আসলে কী চায়? অনির্বাণ বাজারের ব্যাগে সবজিগুলো গুছিয়ে রাখছিল। ঠিক তখনই বুড়ি মা চুপিচুপি এক আঁটি ধনেপাতা আর দুটো কাঁচা লঙ্কা ব্যাগের ভেতর ঢুকিয়ে দিলেন। অনির্বাণ সঙ্গে সঙ্গে দেখে ফেলল। — আবার শুরু করলে বুড়ি মা? বৃদ্ধা কিছু না বলে শুধু মিটিমিটি হেসে রইলেন। — এগুলো বের করে নাও। কতবার বলেছি, আমার কাছ থেকে আলাদা ব্যবহার করবে না। বুড়ি মা এবার অনির্বাণের দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বললেন— — বাবা, সব কিছুর দাম টাকায় হয় না। এটা বিক্রি করছি না, আশীর্বাদ দিচ্ছি। আশীর্বাদের দাম নিলে পাপ হবে। অনির্বাণ আর কোনো কথা বলতে পারল না। চুপচাপ বৃদ্ধার পায়ে হাত ছুঁয়ে প্রণাম করল। বুড়ি মা কাঁপা হাতে মাথায় হাত রেখে বললেন— — ভালো থাকিস বাবা। নিজের মানুষগুলোকে আগলে রাখিস। মানুষ পাশে থাকলে সংসার কখনও গরিব হয় না। বাজারের ভিড়ের মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে অনির্বাণের মনটা অদ্ভুত শান্ত হয়ে গেল। তার মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে লাগল— মানুষ আসলে কী চায়? অর্থ? সম্মান? নাকি আরও বড় কিছু? উত্তরটা যেন খুব দূরে ছিল না। এই বুড়ি মার...
পর্ব – ৩ : বুড়ি মা বাজারের একেবারে শেষ মাথায় বসেন বুড়ি মা। বাঁশের পুরোনো একটা ডালার ওপর যত্ন করে সাজিয়ে রাখা থাকে পুঁইশাক, কচু, লাউ, ঝিঙে, ডাঁটা, ধনেপাতা আর দু-চার রকম মৌসুমি সবজি। দোকান বলতে ত্রিপলের ওপর বিছানো এক চিলতে জায়গা। সেখানেই প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বসেন তিনি। বয়স সত্তর পেরিয়ে গেছে। মুখজুড়ে সময়ের অসংখ্য রেখা। কিন্তু সেই ভাঁজের মধ্যেও হাসিটা আজও শিশুর মতো নির্মল। অনির্বাণকে দেখেই বুড়ি মা হেসে বললেন— — আয় বাবা... আজ এত দেরি করলি? অনির্বাণও হেসে সামনে বসে পড়ল। — আজ ছুটি তো বুড়ি মা। একটু আরাম করে বেরোলাম। তুমি কেমন আছো? বৃদ্ধা হেসে বললেন— — আমার আবার কী হবে বাবা? বাজারে এলেই ভালো থাকি। তিনি একটা ঝিঙে হাতে নিয়ে বললেন— — এইটা নে। আজ ভোরে ক্ষেত থেকে তুলে এনেছি। দাম শুনেই অনির্বাণ বুঝল— আবারও কম নিয়েছেন। সে একটু বিরক্তির সুরেই বলল— — বুড়ি মা, তোমাকে কতবার বলেছি, আমার কাছ থেকে কম দাম নেবে না। বুড়ি মা হেসে ফেললেন। — তোকে না কম দিলে কাকে দেব বল? অনির্বাণ মাথা নেড়ে বলল— ...
পর্ব – ৩ : বুড়ি মা বাজারের একেবারে কোণায় ছোট্ট ত্রিপল পেতে বসেন বুড়ি মা। সামনে কয়েকটা ঝুড়ি। ঝিঙে, পুঁইশাক, কচু, ডাঁটা, লাউ, কুমড়ো, বেগুন, সঙ্গে দু-এক আঁটি ধনেপাতা। দোকানটা বড় নয়। তবু বাজারে প্রায় সবাই তাঁকে চেনে। অনির্বাণকে দেখেই মুখভরা হাসি ফুটে উঠল। — আয় বাবা... আজ এত দেরি করলি? অনির্বাণও হেসে সামনে বসে পড়ল। — আজ একটু দেরি হয়ে গেল বুড়ি মা। কেমন আছো? বৃদ্ধা হেসে বললেন— — আমার আবার কী হবে রে! যতদিন এই বাজারে আসতে পারছি, ততদিন ভালোই আছি। কথা বলতে বলতেই তিনি সবচেয়ে টাটকা ঝিঙেগুলো আলাদা করে রাখলেন। তারপর কয়েকটা কচু, এক আঁটি পুঁইশাক আর ধনেপাতা ব্যাগে ভরে দিলেন। দাম শুনেই অনির্বাণ বুঝে গেল— আবার কম নিয়েছেন। — বুড়ি মা, এটা কী করলে? কতবার বলেছি, আমার কাছ থেকে কম নেবে না। বৃদ্ধা দাঁতহীন মুখে হেসে বললেন— — তোকে না কম দিলে কাকে দেব বল? অনির্বাণ একটু অভিমান করেই বলল— — এভাবে ব্যবসা করলে লাভ করবে কী করে? বুড়ি মা কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর খুব শান্ত গলায় বললেন— — বাবা, লাভ-লোকসানের হিসাব অনেক আগেই শ...
পর্ব – ২ : মধ্যবিত্তের বাজার বাজারে ঢুকতেই যেন অন্য এক পৃথিবী। চারদিক মানুষের কোলাহলে মুখর। কেউ হাঁক দিচ্ছে— — আলু নিন... টাটকা আলু... আরেকজন বলছে— — এই যে দাদা, আজকের পটল... একেবারে ক্ষেত থেকে তোলা। কোথাও ঝিঙে, কোথাও উচ্ছে, কোথাও আবার বেগুনের স্তূপ। সবুজ ধনেপাতার গন্ধে মিশে আছে কাঁচা লঙ্কার ঝাঁঝ। আদা, রসুন, পেঁয়াজের ছোট ছোট দোকান। কেউ বাঁশের ঝুড়ি নিয়ে বসেছে। কেউ আবার মাটিতে ত্রিপল পেতে। বাজারের এই দৃশ্যটা অনির্বাণের খুব প্রিয়। এখানে বড় ছোট বলে কিছু নেই। সবার জীবনই যেন নিজের নিজের লড়াই নিয়ে পাশাপাশি বসে আছে। অনির্বাণ কোনোদিন এক দোকান থেকেই সব কেনাকাটা করে না। সে জানে, কোন দোকানে আলু ভালো। কোথায় পেঁয়াজ একটু সস্তা। কোথায় ধনেপাতা টাটকা থাকে। এক দোকান থেকে আলু। আরেক দোকান থেকে টমেটো। লঙ্কা আর পেঁয়াজ অন্য জায়গা থেকে। এভাবেই ধীরে ধীরে বাজারের ব্যাগটা ভরে ওঠে। এক দোকানি হেসে বলল— — দাদা, আপনাকে তো দরদাম করতেই হয় না। দাম জিজ্ঞেস করে আবার অন্য দোকানে চলে যান! অনির্বাণও হেসে উত্তর দিল— — আপনাদেরও তো...
অধ্যায় – ৮ পর্ব – ১ : মেঘলা সকালের বাজার আজ ছুটির দিন। অনির্বাণের সকালটা অন্য দিনের তুলনায় একটু ধীর। অফিস নেই। তবু ভোরবেলা ঘুম ভাঙার অভ্যাসটা আর বদলায়নি। বারান্দায় দাঁড়িয়ে এক কাপ চা শেষ করে বাজারের ব্যাগটা হাতে তুলে নিল। বাজার করতে তার ভীষণ ভালো লাগে। অনেকের কাছে বাজার মানে সংসারের প্রয়োজন মেটানো। অনির্বাণের কাছে বাজার মানে মানুষের জীবনকে কাছ থেকে দেখা। কে কী বিক্রি করছে, কার মুখে আজ হাসি, কার চোখে দুশ্চিন্তা, কোন সবজির দাম বেড়েছে, কোন মাছ আজ সস্তা—সবকিছুই যেন একটা জীবন্ত গল্পের মতো। আকাশটা সকাল থেকেই মেঘে ঢাকা। এবার বর্ষা যেন একটু বেশিই উদার হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি। ঋতুরও যেন আজকাল নিজের কোনো নিয়ম নেই। যে সময় বিকেলের শেষে কালবৈশাখী নামার কথা, সেই সময়ই সকাল থেকে টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে। প্রকৃতিও যেন মানুষের মতোই বদলে যাচ্ছে। সাইকেলটা বের করে রাস্তায় নামল অনির্বাণ। ভেজা মাটির গন্ধে চারপাশ ভরে আছে। রাস্তায় মানুষজনও আজ একটু বেশি। ছুটির দিনের আলাদা একটা ছন্দ থাকে। মোড়ের টোটো স্ট্যান্ডে কয়েকজন চালক বসে গল্প...
🚉 মাধবপুর স্টেশন লোকাল ট্রেনের জানালা দিয়ে দেখা এক মধ্যবিত্ত জীবনের নীরব প্রেম, সংগ্রাম, দায়িত্ব, আত্মসম্মান এবং মানুষের গল্প। 📖 শুরু থেকে পড়ুন ১১ প্রকাশিত অধ্যায় ২ প্রধান চরিত্র ∞ অনুভূতির যাত্রা 📖 উপন্যাস সম্পর্কে 'মাধবপুর স্টেশন' কোনো রূপকথার প্রেমের গল্প নয়। এটি মধ্যবিত্ত মানুষের বাস্তব জীবনের কাহিনি। প্রতিদিনের লোকাল ট্রেন, সরকারি অফিস, সংসারের দায়িত্ব, বাবা-মায়ের প্রতি কর্তব্য, চাকরির সংগ্রাম এবং নীরবে জন্ম নেওয়া ভালোবাসার এক মানবিক উপাখ্যান। অর্ণিবান ও নন্দিতার গল্পের পাশাপাশি এখানে উঠে এসেছে সমাজের কঠিন বাস্তবতা, মানুষের বিচার, আত্মসম্মান, বন্ধুত্ব এবং সেই সব সম্পর্ক, যাদের কোনো নাম নেই—তবু তারা জীবনের সবচেয়ে সত্যি সম্পর্ক। 📚 প্রকাশিত অধ্যায় অপেক্ষার স্টেশন ও এক কাপ চা ভোরের স্টেশন, গোপাল কাকুর চায়ের দোকান, আর প্রতিদিনের নীরব চোখাচোখি—এই সাধারণ মুহূর্তগুলোই ধীরে ধীরে এক অসাধারণ সম্পর্কের সূচনা করে। 📖 সম্পূর্ণ পড়ুন অফিস নামের আরেক সংসার সরকারি অফিস শু...

বিশ্বাস

অধ্যায়–৭ পর্ব–২ বিশ্বাস ঠিক তখনই পিছন থেকে একটি পরিচিত কণ্ঠস্বর ভেসে এল— — অর্ণিবানবাবু... অর্ণিবান ধীরে ধীরে পিছন ফিরে তাকাল। নন্দিতা। জানালার ধারের আসনে বসে আছে। মুখে সেই চিরচেনা শান্ত হাসি। হাতের ইশারায় পাশের খালি আসনটা দেখিয়ে বলল— — এখানে বসুন... জায়গা আছে। অন্য সময় হলে অর্ণিবান হয়তো ইতস্তত করত। চারপাশে একবার তাকাত। কে কী ভাববে, সেই অদৃশ্য হিসাবটা কষে নিত। কিন্তু আজ তার ভেতরের মানুষটা যেন বদলে যেতে শুরু করেছে। সমাজকে ভয় পেয়েও যে সব অপবাদ এড়ানো যায় না, সেই শিক্ষা আজ সকালেই পেয়ে গেছে। সে আর কোনো কথা না বলে ধীরে ধীরে গিয়ে নন্দিতার পাশের আসনে বসল। কিছুক্ষণ দু'জনেই চুপ। ট্রেনের চাকার ছন্দ যেন সেই নীরবতারই ভাষা হয়ে উঠেছিল। হঠাৎ নন্দিতা খুব শান্ত গলায় বলল— — সকালের ঘটনাটা আমি দেখেছি। অর্ণিবানের বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। সে মাথা নিচু করে বলল— — খুব খারাপ একটা পরিস্থিতি হয়ে গিয়েছিল... নন্দিতা মৃদু হেসে মাথা নাড়ল। তারপর অত্যন্ত স্বাভাবিক গলায় বলল— — পরিস্থিতি খারাপ ছিল। আপনি ...

ভয়ের ওপারে

অধ্যায়–৭ পর্ব–১ ভয়ের ওপারে ট্রেনটা নিজের গতিতেই ছুটে চলেছে। জানালার বাইরে একের পর এক গাছ, মাঠ, ছোট্ট স্টেশন পিছিয়ে যাচ্ছে। অথচ অর্ণিবানের মনে হচ্ছিল, সময় যেন কোথাও থমকে আছে। সকালের ঘটনাটা বারবার ফিরে আসছে। সে জানে, তার কোনো দোষ ছিল না। তবু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কত সহজে তাকে অভিযুক্ত করে ফেলেছিল চারপাশের মানুষ। কেউ জানতে চায়নি, ঘটনাটা কীভাবে ঘটল। কেউ শোনার চেষ্টা করেনি, সে কী বলতে চাইছে। মানুষের বিচার বড় অদ্ভুত। সেখানে সত্যের চেয়ে দৃশ্যটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অর্ণিবানের হঠাৎ লাফার কথা মনে পড়ে গেল। মেসের বারান্দায় একদিন গভীর রাতে চা খেতে খেতে লাফা বলেছিল— "সমাজ কোনোদিন তোমাকে বলবে না, একটা মহৎ কাজ করো। কিন্তু সমাজের অদৃশ্য নিয়মের বাইরে যদি কখনও এক পা ফেলো—সে তোমাকে সহজে ক্ষমা করবে না।" তখন কথাটা শুনে সবাই নিরুত্তর ছিল। আজ অর্ণিবান বুঝল, কথাটার ভেতরে কতটা তিক্ত সত্যি লুকিয়ে ছিল। মানুষ সারাজীবন সৎ থাকতে পারে। অসংখ্য ভালো কাজ করতে পারে। সেগুলোর হিসেব সমাজ খুব কমই রাখে। কিন্তু এক মুহূর্তের ভুল বোঝাবুঝি......

ভুল বোঝাবুঝি

অধ্যায়–৬ ভুল বোঝাবুঝি ট্রেন ছাড়ার ঠিক আগে জানলার পাশে দাঁড়িয়ে একবার চোখাচোখি হয়েছিল নন্দিতা আর অর্ণিবানের। কেউ কিছু বলেনি। শুধু দু'জনেই মৃদু হেসেছিল। সেই হাসিতে সংকোচ ছিল, নতুন পরিচয়ের মৃদু উষ্ণতা ছিল, আর ছিল অজান্তেই জন্ম নিতে থাকা একটুখানি ভালো লাগা। গত কয়েকদিনে চায়ের দোকানে দু-একবার কথাও হয়েছে। প্রথম পরিচয় অবশ্য করিয়ে দিয়েছিলেন গোপাল কাকু। মাঝে মাঝে অর্ণিবানের মনে হয়, বুড়ো মানুষটা যেন দু'জনের মনের কথাই আগেই বুঝে ফেলেছিলেন। আজ ট্রেনে ভিড়টা একটু বেশি। নন্দিতা উঠেছে পাশের কামরায়। অর্ণিবান দাঁড়িয়ে আছে নিজের কামরার দরজার কাছে। ট্রেন একটা স্টেশনে থামতেই হুড়োহুড়ি করে অনেক যাত্রী একসঙ্গে উঠে পড়ল। মুহূর্তের মধ্যে শুরু হলো ধাক্কাধাক্কি। কেউ ভেতরে ঢুকতে চাইছে, কেউ নামতে চাইছে। এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই হঠাৎ পিছন থেকে কে যেন জোরে ধাক্কা দিল। অর্ণিবান নিজের ভারসাম্য রাখতে পারল না। এক ঝটকায় সামনের দিকে হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেল। ঠিক সামনে জানালার ধারে বসেছিলেন এক তরুণী। এক মুহূর্তের জন্য অর্ণিবানের শরীর প্রায় ...

একটি অদৃশ্য ক্ষত -৮

উৎপলবাবু অনেকক্ষণ মাথা নিচু করে বসে রইলেন। টিফিন রুমে তখন প্রায় কেউ নেই। জানালার বাইরে বিকেলের আলো একটু একটু করে নরম হয়ে আসছে। হঠাৎ তিনি খুব আস্তে বললেন— — জানো অর্ণিবান, আজও মাঝরাতে আমার ঘুম ভেঙে যায়। মনে হয়, আমি কি সত্যিই আমার কর্তব্য শেষ করেছিলাম? সরকারি কর্মচারী হিসেবে হয়তো করেছিলাম। কিন্তু একজন মানুষ হিসেবে? সেই প্রশ্নের উত্তর আজও খুঁজে পাই না। সেদিন যদি সমাজের ভয়টাকে একটু দূরে সরিয়ে রাখতে পারতাম... যদি একদিন অদিতিকে বলতাম— "ভয় পেও না। মন খারাপ হলে ফোন করবে। আমি বড় ভাইয়ের মতো তোমার কথা শুনব।" যদি মাসে একদিন শুধু খোঁজ নিতাম— "কেমন আছ?" যদি শুধু এইটুকু বিশ্বাস দিতে পারতাম যে পৃথিবীতে অন্তত একজন মানুষ তার কথা মন দিয়ে শুনবে... তাহলে হয়তো... হয়তো অদিতির জীবনটা অন্যরকম হতে পারত। আমি নিশ্চিত নই। কিন্তু এই 'হয়তো' শব্দটাই আমার সারাজীবনের শাস্তি হয়ে গেছে। আমরা সমাজকে খুব ভয় পাই, অর্ণিবান। কিন্তু সমাজ কি কোনোদিন এসে একজন একা মানুষের চোখের জল মুছে দেয়? সমাজ কি কোনোদিন গভ...

একটি অদৃশ্য ক্ষত -৭

শেষ বার্তাটি উৎপলবাবু অনেকক্ষণ চুপ করে রইলেন। টিফিন রুমের ঘড়িতে তখন প্রায় দুটো বাজতে চলেছে। সহকর্মীরা একজন একজন করে উঠে নিজের ঘরে ফিরে যাচ্ছেন। কিন্তু অর্ণিবান আর উৎপলবাবুর যেন সময়ের কোনো হিসেব নেই। উৎপলবাবু ধীরে ধীরে বলতে শুরু করলেন— — তারপর আমার বিয়ে হয়ে গেল। নতুন সংসার... নতুন দায়িত্ব... অফিসের কাজও তখন অনেক বেড়ে গেছে। জীবন অদ্ভুত জিনিস, অর্ণিবান। সে কাউকে ভুলিয়ে দেয় না, কিন্তু ব্যস্ত করে দেয়। আমিও ভেবেছিলাম, অদিতি নিশ্চয়ই ধীরে ধীরে নিজেকে সামলে নিচ্ছে। হয়তো কোথাও একটা কাজ পেয়ে গেছে। হয়তো নতুন করে বাঁচতে শিখছে। এই ভেবেই আর তেমন খোঁজ নেওয়া হয়নি। অদিতির বার্তাও ধীরে ধীরে কমে গেল। আগে সপ্তাহে দু-তিনবার লিখত। তারপর মাসে একবার। শেষদিকে শুধু উৎসবের দিনে একটি ছোট্ট শুভেচ্ছা। আর আমি... আমিও শুধু লিখতাম— "ভালো থাকবেন।" আজ ভাবি, মানুষ কখন যে শুধু কথার উত্তর দেয়, মানুষের নয়—তা সে নিজেও বুঝতে পারে না। প্রায় এক বছর কেটে গেল। একদিন অন্য একটি সরকারি তদন্তের কাজে আবার সেই গ্রামে যেতে হল...

একটি অদৃশ্য ক্ষত -৬

সমাজের ভয় উৎপলবাবু কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। টিফিন রুমের কোলাহল যেন অনেক দূরে সরে গেছে। অর্ণিবান বুঝতে পারছিল, মানুষটা শুধু একটা গল্প বলছেন না—নিজের বুকের ভেতরে বহু বছর ধরে লুকিয়ে রাখা একটা ক্ষত ধীরে ধীরে খুলে দেখাচ্ছেন। উৎপলবাবু আবার বলতে শুরু করলেন— — সেদিন অদিতির কথা শুনে সত্যিই চেষ্টা করেছিলাম। আমার পরিচিত দু-একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, একটি বেসরকারি স্কুল, এমনকি একজন বন্ধুর অফিসেও কথা বলেছিলাম। প্রতিবারই একই উত্তর— "অভিজ্ঞতা চাই।" "এখন লোক নেওয়া হচ্ছে না।" "পরে যোগাযোগ করুন।" প্রতিবার অদিতিকে ফোন করে বা বার্তা দিয়ে বলতাম— "আরও একটু অপেক্ষা করুন। আমি চেষ্টা করছি।" ও প্রতিবারই একই উত্তর দিত— "আপনি চেষ্টা করছেন, এটাই আমার কাছে অনেক স্যার।" কিন্তু আমি বুঝতে পারতাম, কথাগুলো বলার সময়ও ওর ভেতরের আলো একটু একটু করে নিভে যাচ্ছে। একদিন রাত প্রায় সাড়ে দশটা। মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপের শব্দ হলো। অদিতির বার্তা। "ঘুমিয়ে পড়েছেন?" আমি লিখলাম— "না। বলুন।...

একটি অদৃশ্য ক্ষত -৫

একটি নম্বর, কিছু বার্তা সেই দিনের পর থেকে অদিতির সঙ্গে আমার যোগাযোগটা খুব ধীরে ধীরে বাড়তে লাগল। না, তাকে যোগাযোগ বলা ঠিক হবে না। বরং বলা যায়, একজন সরকারি আধিকারিক আর এক অসহায় মেয়ের মধ্যে প্রয়োজনের সূত্র ধরে তৈরি হয়েছিল এক অদ্ভুত বিশ্বাস। সেই বিশ্বাসের মধ্যে কোনো গোপনীয়তা ছিল না। ছিল না কোনো প্রেমের ইঙ্গিতও। ছিল শুধু একা হয়ে যাওয়া একটা মানুষের একটু ভরসা খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা। লিগ্যাল হেয়ার এনকোয়ারির কাজ চলছিল। কখনও কোনো নথিতে ভুল। কখনও নতুন কাগজের প্রয়োজন। তাই মাঝেমধ্যে ফোন করতেই হতো। কখনও আমি করতাম। কখনও অদিতি। একদিন দুপুরে অফিসে বসে ফাইল দেখছি। হঠাৎ মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপের শব্দ। স্ক্রিনে ভেসে উঠল— "স্যার, বিরক্ত করছি না তো?" আমি উত্তর দিলাম— "না, বলুন।" কয়েক সেকেন্ড পর উত্তর এল— "আজ সারাদিন কারও সঙ্গে একটা কথাও হয়নি। তাই আপনাকে লিখলাম।" মেসেজটা পড়ে আমি অনেকক্ষণ চুপ করে বসে ছিলাম। একজন মানুষ কতটা একা হলে এমন কথা লিখতে পারে? শেষে শুধু লিখলাম— "নিজেকে ...

একটি অদৃশ্য ক্ষত -৪

কয়েক দিন পর আবার এল অদিতি। এবার তার মুখে আগের দিনের সেই অসহায় আতঙ্কটা একটু কম। মনে হলো, সরকারি অফিসের এই ঘরটা অন্তত তার কাছে আর সম্পূর্ণ অচেনা নয়। হাতে সুন্দর করে গুছিয়ে রাখা একটা ফাইল। — স্যার, আপনি যেগুলো বলেছিলেন... সব নিয়ে এসেছি। আমি কাগজগুলো একে একে দেখতে লাগলাম। প্রতিটি কাগজ খুব যত্ন করে প্লাস্টিক ফোল্ডারে ভরে এনেছে। যে মানুষ জীবনকে যত্ন করে বাঁচাতে চায়, সে কাগজও যত্ন করেই রাখে। কাগজ দেখতে দেখতে জিজ্ঞেস করলাম— — বাড়িতে আর কে আছেন? প্রশ্নটা শুনে অদিতি কয়েক মুহূর্ত চুপ করে রইল। তারপর খুব শান্ত গলায় বলল— — কেউ নেই, স্যার। আমি একটু ইতস্তত করে আবার জিজ্ঞেস করলাম— — আত্মীয়স্বজন? মামা, কাকা, মাসি... কেউ নেই? অদিতি মৃদু হেসে মাথা নাড়ল। সেই হাসিটা ছিল বড় অদ্ভুত। অভিমান আর অসহায়তার মাঝামাঝি কোথাও দাঁড়িয়ে থাকা এক নিঃশব্দ হাসি। — সবাই আছেন স্যার... মামা আছেন, মামি আছেন, কাকা আছেন, দূর সম্পর্কের আত্মীয়ও আছেন। কিন্তু মানুষ শুধু রক্তের সম্পর্ক থাকলেই আপন হয় না। সে একটু থামল। জানালার বাইরে তাকিয়ে খুব শ...

একটি অদৃশ্য ক্ষত - ৩

অদিতি টিফিন রুমের ভেতরটা হঠাৎ যেন অস্বাভাবিক শান্ত হয়ে গেল। জানালার বাইরে কৃষ্ণচূড়ার ডালগুলো বাতাসে দুলছে। দূরে অফিসের করিডোরে মানুষের পায়ের শব্দ ভেসে আসছে, কিন্তু সেই শব্দ যেন এই ঘরের ভেতরে ঢুকতে পারছে না। উৎপলবাবু কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে বসে রইলেন। মনে হচ্ছিল, তিনি যেন অফিসে নন—বহু বছর আগের কোনো বিকেলে ফিরে গেছেন। ধীরে ধীরে তিনি বলতে শুরু করলেন— — বছরটা ছিল ২০২০। চারদিকে করোনার আতঙ্ক। প্রতিদিন খবরের কাগজ খুললেই শুধু মৃত্যু, হাসপাতাল, অক্সিজেন, কান্না। সেই সময় আমাদের অফিসেও একের পর এক লিগ্যাল হেয়ার এনকোয়ারির ফাইল আসছিল। একদিন দুপুরে আমার টেবিলে একটি ফাইল এসে পৌঁছাল। অন্য দিনের মতোই খুললাম। প্রথম পাতায় লেখা ছিল— মৃত কর্মচারী : শ্রীমতী সুচরিতা মুখোপাধ্যায় পদ : প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা একমাত্র উত্তরাধিকারী : অদিতি মুখোপাধ্যায় বয়স : ২৫ বছর সরকারি কাগজে মানুষের পরিচয় এতটুকুই। সেখানে লেখা থাকে না— শৈশবে বাবা মারা গেছেন। তারপর একমাত্র দিদিও চলে গেছে। আর শেষ আশ্রয়, মা—করোনায় হারিয়ে গেলেন। সরকারি ফা...