Skip to main content

Posts

নিরিবিলির প্রেমে

নিরিবিলির প্রেমে আমি আর খোঁজ রাখি না— সেই বন্ধুদের, যাদের সাথে দিনরাত জমত আড্ডা, চায়ের দোকানের ধোঁয়ায় হারিয়ে যেত বিকেল, তাসের টেবিলে মিলত হাসি আর হারের হিসেব। আজ সেসব নামও বুকের ভেতর ধুলো হয়ে আছে। পুরনো পাতার মতো, যা ঝরে গেছে নিঃশব্দে, কোনো শোক না রেখেই। আমি আর খোঁজ রাখি না— পাড়ার কার বউ কার সাথে, কে কার বিরুদ্ধে, কার ছেলে প্রথম হলো, কার মেয়ে গেল বিদেশে, কে বানাল কত বড়ো বাড়ি— এসব খবর আর ডাকে না আমাকে। এসব কোলাহল আজ আমার কাছে দূরের কোনো জনপদের গুঞ্জন মাত্র। জীবনকে সাজিয়ে নিয়েছি আমি অরণ্যের বুক চিরে বয়ে চলা এক নদীর মতো— নিঃশব্দ, নিজের ছন্দে, নিজের স্রোতে। যার কোনো তাড়া নেই, কোনো দর্শক নেই, যে জানে না তার জল কতদূর যাবে, শুধু জানে বয়ে যেতে হবে, নিজের ছন্দে, নিজের স্রোতে, পাথরে পাথরে ধাক্কা খেয়ে নিজের ভেতরই নিজের গান বাজিয়ে। কোনো ঢেউ নেই তার আস্ফালনের, শুধু এক নিরন্তর, নিভৃত বয়ে চলা— যেমন করে বয়ে চলে সময়, কারো অপেক্ষায় না থেকে। ওই যে, যা...
Recent posts

😄 ইমোজির ফাঁদে

😄 ইমোজির ফাঁদে একটি রম্য রচনা এক সময় মানুষ চিঠি লিখত। চিঠির শেষে থাকত—"ইতি, তোমারই..."। সেই চিঠিতে থাকত মনের কথা, অপেক্ষার গন্ধ, আর অনুভূতির উষ্ণতা। এখন আর সে ঝামেলা নেই। এখন শুধু একটা ❤️, 😘, 👍 বা 🙏 পাঠিয়ে দিলেই যেন সব দায়িত্ব শেষ। মনে হয়, বাংলা ভাষার অবসর হয়ে গেছে, আর তার জায়গায় চাকরিতে যোগ দিয়েছে ইমোজি মহাশয়! আজকাল মানুষ কথা কম বলে, মুখ বেশি দেখায়। অবশ্য নিজের মুখ নয়—হলুদ রঙের গোলগাল মুখ। সেই মুখ কখনও হাসে 😂, কখনও কাঁদে 😭, কখনও রাগে 😡, আবার কখনও এমনভাবে চোখ টিপে 😉 যে বোঝাই যায় না—এটা মজা, না ষড়যন্ত্র! স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরাও ইমোজির বড় ভক্ত। রেজাল্টের দিন বন্ধুকে মেসেজ করল—"কীরে, কেমন হলো?" উত্তর এলো শুধু 😭। বন্ধু ভাবল, নির্ঘাত ফেল করেছে! সমবেদনা জানাতে ছুটে গেল। পরে জানা গেল, ছেলেটা A+ পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেছে। তখন বোঝা গেল, ইমোজির কান্না সব সময় দুঃখের নয়—মাঝে মাঝে সেটা আনন্দেরও হতে পারে। কিন্তু সেটা বুঝবে কে? প্রেমের জগতে ইমোজির কদর আরও বেশি। আগে প্রেমপত্র লিখতে সাত পৃষ্ঠা লাগত। এখন শুধু একটা ❤️ পাঠিয়ে দিলেই প্র...

🚿 বাথরুমের রহস্য বেচারা স্বামীর ডায়েরি

  ঘড়িতে সকাল আটটা। নয়টা ৩০ লোকাল। মিস হলে বসের চোখে আজকের দিনটা "জাতীয় শোক দিবস" ঘোষণা হয়ে যাবে। স্বামী বীরদর্পে বললেন— — "আমি পাঁচ মিনিটে ফ্রেশ হয়ে আসছি।" ঠিক পাঁচ মিনিটেই বেরিয়ে এলেন। চুল ভিজেছে কি না, সেটা নিয়ে সন্দেহ থাকতে পারে, কিন্তু মানুষটা বেরিয়ে এসেছেন—এটাই বড় কথা। বেরিয়েই একটু গলা খাঁকারি দিয়ে বললেন— — "দেখলে? স্নান করতে ইচ্ছে লাগে, সময় নয়।" স্ত্রী আয়নার সামনে চুল বেঁধে শান্ত গলায় বললেন— — "আমি স্নান সেরে এক্ষুনি আসছি।" এই "এক্ষুনি" শব্দটার অভিধান এখনও পর্যন্ত কোনো ভাষাবিদ লিখে শেষ করতে পারেননি। কারণ এর দৈর্ঘ্য পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়—কখনও আধঘণ্টা, কখনও এক ঘণ্টা, আবার বিশেষ বিশেষ দিনে দেড় ঘণ্টাও হতে পারে! দরজা বন্ধ। ট্যাপের শব্দ। মাঝে মাঝে গুনগুন করে গান। মনে হচ্ছে বাথরুম নয়, পাঁচতারা স্পা। এদিকে বাইরে বাস্তব পৃথিবী। কোলের বাবু ঘোষণা করেছে— "আমি এখনই কাঁদব!" চুলার দুধ ঘোষণা করেছে— "আমি এখনই উথলাব!" অফিসের বস ঘোষণা করেছেন— "আর পাঁচ মিনি...
পর্ব – ৮ : বিবেকের সামনে বৃষ্টিটা তখনও ঝিরঝির করে পড়ছে। সোহিনী ছাতাটা একটু অনির্বাণের দিকেও বাড়িয়ে দিল। অনির্বাণ সাইকেলটা পাশে নিয়ে ধীরে ধীরে হাঁটতে লাগল। প্রথম কয়েক মুহূর্ত দু'জনেই চুপ। নীরবতাটা ভাঙল সোহিনী। — অফিস কেমন চলছে? অনির্বাণ হেসে বলল— — ভালোই। সরকারি চাকরিতে কাজের শেষ নেই। তবে মানুষের কাজ করতে পারলে ক্লান্তিটাও আলাদা লাগে না। সোহিনী মাথা নাড়ল। — আজকাল সরকারি চাকরি পাওয়াই তো বড় যুদ্ধ। অনির্বাণ হালকা হেসে বলল— — চাকরি পাওয়ার লড়াই শেষ হয়, কিন্তু দায়িত্বের লড়াই তখনই শুরু হয়। সোহিনী মুগ্ধ চোখে তার দিকে তাকাল। ঠিক তখনই অনির্বাণের চোখ পড়ল রাস্তার দু'পাশে। বাজার থেকে ফিরছেন অনেকেই। কেউ সাইকেলে। কেউ হেঁটে। কয়েকজন তাদের দিকে একবার তাকিয়েও নিল। অনির্বাণের ভেতরে হালকা একটা অস্বস্তি কাজ করল। হঠাৎ তার মনে পড়ে গেল— সেই পরিচয়পত্র। সেদিন স্টেশনে সোহিনীকে বাড়ি পৌঁছে দিতে গিয়ে অসাবধানতায় তার অফিসের পরিচয়পত্রটি সোহিনীর হাতে চলে গিয়েছিল। সেই সূত্রেই আজ সে তাকে নাম ধরে ডাকতে পেরেছে। ...
পর্ব – ৭ : আবার দেখা অনির্বাণ থেমে পিছন ফিরে তাকাল। বৃষ্টির জল ঝাপসা পর্দার মতো নেমে আসছে। ছাতার নিচে দাঁড়িয়ে থাকা তরুণীটি আবার মৃদু হেসে বলল— — অনির্বাণবাবু... চিনতে পারছেন না? অনির্বাণ কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। মুখটা বড় চেনা লাগছে। কিন্তু কোথায় দেখেছে, কিছুতেই মনে করতে পারছে না। মেয়েটি এবার হেসে ফেলল। — সেদিন স্টেশনে খুব বৃষ্টি হচ্ছিল... মনে আছে? কথাটা শেষ হতেই অনির্বাণের মনে যেন হঠাৎ বিদ্যুতের ঝলকানি খেলল। সেই রাত... ঝড়-বৃষ্টি... ফাঁকা স্টেশন... আর এক অসহায় তরুণীকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ঘটনা। সে অবাক হয়ে বলল— — ও... আপনি! সত্যিই চিনতে পারিনি। মেয়েটি মিষ্টি করে হেসে বলল— — চিনবেনই বা কী করে? সেদিন তো বৃষ্টির মধ্যে ঠিকমতো মুখই দেখতে পাননি। আজ তাকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। হালকা নীল রঙের চুড়িদার। কাঁধে ছোট্ট একটি ব্যাগ। ভেজা বাতাসে কয়েক গোছা চুল মুখের ওপর এসে পড়েছে। মুখে কোনো বাড়তি সাজ নেই। তবুও এক অদ্ভুত স্বাভাবিক সৌন্দর্য যেন তাকে আলাদা করে চিনিয়ে দেয়। অনির্বাণ মনে মনে ভাবল— সেদিন বৃষ্টির অন্ধ...
পর্ব – ৬ : বৃষ্টির আটচালা আকাশের দিকে তাকিয়ে অনির্বাণ বুঝল, এই বৃষ্টি এত সহজে থামার নয়। মুহূর্তের মধ্যেই ঝমঝমিয়ে নেমে এল বর্ষা। টিনের চালের ওপর বৃষ্টির শব্দ যেন একটানা তবলার তালে বাজতে লাগল। অনির্বাণ সাইকেলটা পাশে রেখে বন্ধ দোকানের আটচালার নিচে দাঁড়িয়ে রইল। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ ভিজে গামছা নিংড়াচ্ছেন। কেউ মোবাইল ফোনে রিল দেখে হেসে উঠছেন। দু-একজন চুপচাপ বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে। আর এক কোণে চার-পাঁচজন ভদ্রলোক বেশ জমিয়ে রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করছেন। — দেশটার আর কিছু হবে না। — সব দোষ সরকারের। — আরে না না, আগের সরকার থাকলেও একই হতো। — ভোটের সময় সবাই বড় বড় কথা বলে। তারপর কেউ আর মানুষকে মনে রাখে না। কথার সঙ্গে সঙ্গে হাতও নাড়ছে। কখনও গলার স্বর উঁচু হচ্ছে। কখনও সবাই একসঙ্গে কথা বলছে। দেখলে মনে হবে, এই আটচালাতেই বুঝি দেশের ভবিষ্যৎ ঠিক হয়ে যাবে। অনির্বাণ মৃদু হেসে মাথা নিচু করল। রাজনীতি সম্পর্কে তার নিজস্ব মতামত অবশ্যই আছে। কিন্তু সে অকারণ তর্কে বিশ্বাস করে না। ছোটবেলা থেকেই সে শিখেছে— কথ...
পর্ব – ৫ : মাছের বাজার মাছের বাজারে ঢুকতেই যেন আরেকটা আলাদা জগৎ। চারদিকে বরফের ওপর সারি সারি মাছ। ইলিশ, কাতলা, রুই, পাবদা, ট্যাংরা, শোল, বোয়াল, গলদা চিংড়ি— যেদিকে চোখ যায় শুধু মাছ আর মাছ। মাছওয়ালাদের হাঁকডাকে পুরো বাজার মুখর। — এই যে দাদা... আজকের ইলিশ দেখে যান! — পাবদা নিন... একেবারে নদীর মাছ! — গলদা চিংড়ি... একবার দাম শুনে যান! অনির্বাণ অবশ্য জানে— সব ডাকের উত্তর দিতে নেই। একবার দাঁড়ালেই আর ছাড়া পাওয়া মুশকিল। সে ধীরে ধীরে কয়েকটা দোকান ঘুরে দাম জিজ্ঞেস করতে লাগল। ছোটবেলা থেকেই বাবার কাছেই শিখেছে— বাজারে কখনও প্রথম দোকান থেকেই কিছু কিনতে নেই। দুই-চারটে দোকান ঘুরে তবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আজ বাবার কথাই বেশি মনে পড়ছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাবার শরীরটাও আগের মতো নেই। ডাক্তার তেল-মশলা কম খেতে বলেছেন। তাই আজ সে ঠিক করেই বেরিয়েছে— বাবার জন্য পাবদা মাছ নেবে। একটা দোকানে দাঁড়াতেই মাছওয়ালা হেসে বলল— — দাদা, আজ কী দেব? অনির্বাণ মাছগুলো একটু উল্টেপাল্টে দেখে বলল— — তিন পিস পাবদা কেটে দিন। একটু ছোট সাইজে...