Skip to main content

পর্ব – ৮ : বিবেকের সামনে

বৃষ্টিটা তখনও ঝিরঝির করে পড়ছে।

সোহিনী ছাতাটা একটু অনির্বাণের দিকেও বাড়িয়ে দিল।

অনির্বাণ সাইকেলটা পাশে নিয়ে ধীরে ধীরে হাঁটতে লাগল।

প্রথম কয়েক মুহূর্ত দু'জনেই চুপ।

নীরবতাটা ভাঙল সোহিনী।

— অফিস কেমন চলছে?

অনির্বাণ হেসে বলল—

— ভালোই। সরকারি চাকরিতে কাজের শেষ নেই। তবে মানুষের কাজ করতে পারলে ক্লান্তিটাও আলাদা লাগে না।

সোহিনী মাথা নাড়ল।

— আজকাল সরকারি চাকরি পাওয়াই তো বড় যুদ্ধ।

অনির্বাণ হালকা হেসে বলল—

— চাকরি পাওয়ার লড়াই শেষ হয়, কিন্তু দায়িত্বের লড়াই তখনই শুরু হয়।

সোহিনী মুগ্ধ চোখে তার দিকে তাকাল।

ঠিক তখনই অনির্বাণের চোখ পড়ল রাস্তার দু'পাশে।

বাজার থেকে ফিরছেন অনেকেই।

কেউ সাইকেলে।

কেউ হেঁটে।

কয়েকজন তাদের দিকে একবার তাকিয়েও নিল।

অনির্বাণের ভেতরে হালকা একটা অস্বস্তি কাজ করল।

হঠাৎ তার মনে পড়ে গেল—

সেই পরিচয়পত্র।

সেদিন স্টেশনে সোহিনীকে বাড়ি পৌঁছে দিতে গিয়ে অসাবধানতায় তার অফিসের পরিচয়পত্রটি সোহিনীর হাতে চলে গিয়েছিল।

সেই সূত্রেই আজ সে তাকে নাম ধরে ডাকতে পেরেছে।

এক মুহূর্তের জন্য অনির্বাণ নিজের ভেতরেই যেন প্রশ্ন করল—

আমি কি ঠিক করছি?

পরক্ষণেই নিজের মনই উত্তর দিল—

মানুষের সঙ্গে কথা বলা কোনো অন্যায় নয়।

সম্মান দিয়ে কথা বলা তো আরও নয়।

তবু জীবনে কিছু সীমারেখা থাকে।

সেই সীমারেখা সমাজ টেনে দেয় না।

মানুষের নিজের বিবেকই টেনে দেয়।

সমাজের চোখকে ফাঁকি দেওয়া খুব সহজ।
কিন্তু নিজের বিবেকের চোখকে কখনও ফাঁকি দেওয়া যায় না।

অনির্বাণ বিশ্বাস করে—

মানুষের চরিত্রের প্রকৃত বিচার আদালতে হয় না।

হয় নিজের নীরব অন্তরের কাছে।

যেদিন মানুষ নিজের চোখে ছোট হয়ে যায়, সেদিন পৃথিবীর সমস্ত সম্মানও তাকে আর বড় করতে পারে না।

এই ভাবনাগুলো তার জীবনের

Comments

Popular posts from this blog

অপেক্ষার স্টেশন ও এক কাপ চা

অপেক্ষার স্টেশন ও এক কাপ চা মধ্যবিত্তের জীবন, অপেক্ষা এবং ভালোবাসার গল্প প্রথম অধ্যায় ভোর পাঁচটা পঁয়তাল্লিশ ঘড়ির অ্যালার্ম বাজার আগেই অনির্বাণের ঘুম ভেঙে যায়। বহু বছরের অভ্যাস। এখন আর অ্যালার্ম তাকে জাগায় না, শরীরটাই সময়ের আগে বুঝে যায়— আরও একটা দিন শুরু হয়েছে। কিছুক্ষণ চুপচাপ শুয়ে থাকে সে। পাশের ঘর থেকে বাবার শুকনো কাশি ভেসে আসে। রান্নাঘরে মায়ের হাঁড়ি-পাতিলের শব্দ। উঠোনে কলের জল ভরার আওয়াজ। এই শব্দগুলোই তার প্রতিদিনের সকাল। জানালাটা খুলতেই ভোরের ঠান্ডা হাওয়া মুখে এসে লাগল। দূরে রেললাইনের দিক থেকে একটা লোকাল ট্রেনের হুইসেল ভেসে এল। পূর্ব আকাশে তখন আলো ফুটতে শুরু করেছে। পাড়ার দু-একটা বাড়ির দরজা খুলছে, কোথাও ধূপের গন্ধ, কোথাও চায়ের কেটলিতে প্রথম জল চাপানোর শব্দ।  আয়নার সামনে দাঁড়াল অনির্বাণ। সাদা শার্টটা আগের রাতে ধুয়ে শুকিয়েছে। কলার একটু পুরোনো, হাতার কাছে রং উঠে গেছে। তবু যত্ন করে ইস্ত্রি করা। সরকারি অফিসের গ্রুপ-ডি চাকরিতে মানুষ ধনী হয় না, তবে জামাকাপড় পরিষ্কার রাখার অভ্যাসটা এখনও যায়নি। আলমারির ওপর রাখা পুরোনো হাতঘড়িটা হাতে পরল সে। ঘড...
🚉 মাধবপুর স্টেশন লোকাল ট্রেনের জানালা দিয়ে দেখা এক মধ্যবিত্ত জীবনের নীরব প্রেম, সংগ্রাম, দায়িত্ব, আত্মসম্মান এবং মানুষের গল্প। 📖 শুরু থেকে পড়ুন ১১ প্রকাশিত অধ্যায় ২ প্রধান চরিত্র ∞ অনুভূতির যাত্রা 📖 উপন্যাস সম্পর্কে 'মাধবপুর স্টেশন' কোনো রূপকথার প্রেমের গল্প নয়। এটি মধ্যবিত্ত মানুষের বাস্তব জীবনের কাহিনি। প্রতিদিনের লোকাল ট্রেন, সরকারি অফিস, সংসারের দায়িত্ব, বাবা-মায়ের প্রতি কর্তব্য, চাকরির সংগ্রাম এবং নীরবে জন্ম নেওয়া ভালোবাসার এক মানবিক উপাখ্যান। অর্ণিবান ও নন্দিতার গল্পের পাশাপাশি এখানে উঠে এসেছে সমাজের কঠিন বাস্তবতা, মানুষের বিচার, আত্মসম্মান, বন্ধুত্ব এবং সেই সব সম্পর্ক, যাদের কোনো নাম নেই—তবু তারা জীবনের সবচেয়ে সত্যি সম্পর্ক। 📚 প্রকাশিত অধ্যায় অপেক্ষার স্টেশন ও এক কাপ চা ভোরের স্টেশন, গোপাল কাকুর চায়ের দোকান, আর প্রতিদিনের নীরব চোখাচোখি—এই সাধারণ মুহূর্তগুলোই ধীরে ধীরে এক অসাধারণ সম্পর্কের সূচনা করে। 📖 সম্পূর্ণ পড়ুন অফিস নামের আরেক সংসার সরকারি অফিস শু...

নন্দিতার নীরবতা

পঞ্চম অধ্যায় প্রতিদিন ভোরে স্টেশনের সেই ছোট্ট চায়ের দোকানে যে মেয়েটিকে দেখা যায়, তার নাম নন্দিতা । বয়স চব্বিশ-পঁচিশের বেশি নয়। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। চাকরিটা পেয়েছিল অনেকের তুলনায় বেশ অল্প বয়সেই। পাড়ার লোকজন বলত— — "মেয়েটার ভাগ্য ভালো।" নন্দিতা শুধু মৃদু হেসে যেত। মানুষ সাফল্য দেখে। সেই সাফল্যের পেছনে কত রাতের ঘুম হারিয়ে গেছে, কত ভোর বই খুলে শুরু হয়েছে, কত পরীক্ষার হল থেকে বুক ধড়ফড় করতে করতে বেরিয়েছে—সেসব কেউ দেখে না। চাকরিটা পাওয়ার দিনটা শুধু তার নিজের ছিল না। সেদিন যেন পুরো সংসার একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বেঁচেছিল। বাড়িতে বাবা আছেন। মা আছেন। একজন বড় দাদা।বৌদি আর ছোট্ট ভাইপো ঈষান... আর দিদির বিয়ে হয়ে গেছে। সংসারের সবচেয়ে নিশ্চিত আয় এখন নন্দিতার বেতন। তাই বাড়িতে কেউ খুব একটা তাড়া দেয় না তার বিয়ের জন্য। মুখে অবশ্য সবাই একই কথা বলে— — "ভালো ছেলে পেলে তখন দেখা যাবে।" পাত্রপক্ষ আসে। চা-জলখাবার হয়। কথাবার্তাও এগোয়। কখনও কখনও বিয়ের দিন-তারিখ নিয়ে ইঙ্গিতও পাওয়া...