Skip to main content

গুড মর্নিংয়ের মহিমা😀

গুড মর্নিংয়ের মহিমা

একসময় মানুষ সকালে ঘুম থেকে উঠে সূর্য দেখত।

এখন মানুষ ঘুম থেকে উঠে হোয়াটসঅ্যাপ দেখে।

কারণ সূর্য উঠেছে কি না জানা না গেলেও, গুড মর্নিং মেসেজ এসেছে কি না জানা খুব জরুরি।

আমার এক আত্মীয় আছেন।

তিনি পৃথিবীর যেকোনো প্রাকৃতিক নিয়ম ভঙ্গ করতে পারেন, কিন্তু সকালবেলা গুড মর্নিং মেসেজ পাঠাতে ভুল করেন না।

ভূমিকম্প হতে পারে।

ঝড় হতে পারে।

ইন্টারনেট ধীর হতে পারে।

কিন্তু সকাল ৫টা ৪৭ মিনিটে তাঁর "🌹🌹Good Morning🌹🌹" হাজির হবেই।

মাঝে মাঝে আমার সন্দেহ হয়, উনি ঘুম থেকে ওঠেন না।

উনিই সূর্যকে ঘুম থেকে তোলেন।

গুড মর্নিং মেসেজেরও আবার বিভিন্ন প্রজাতি আছে।

কিছু মেসেজে ফুল থাকে।

কিছুতে সূর্য ওঠে।

কিছুতে জলপ্রপাত বয়ে যায়।

আর কিছু মেসেজে এমন সব উপদেশ লেখা থাকে, যা পড়ে মনে হয় প্রেরক ব্যক্তি রাতে অন্তত তিনবার জীবনদর্শন আবিষ্কার করেছেন।

একদিন এক ভদ্রলোক আমাকে লিখলেন—

"জীবন একটি আয়না। তুমি হাসলে জীবন হাসবে।"

মেসেজটা এল সকাল ৫টা ১২ মিনিটে।

আমি তখনও ঘুমাচ্ছি।

জীবন হাসল কি না জানি না, কিন্তু আমার ঘুমটা কেঁদে ফেলেছিল।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই মেসেজগুলোর উত্তর না দিলে অনেকের মন খারাপ হয়ে যায়।

একদিন এক আত্মীয় ফোন করে বললেন—

— "কী ব্যাপার? তিন দিন ধরে আমার গুড মর্নিংয়ের উত্তর দিচ্ছ না!"

আমি বললাম—

— "আমি তো পড়েছি।"

তিনি বললেন—

— "পড়েছ, কিন্তু 🌹 পাঠাওনি!"

সেদিন বুঝলাম, গুড মর্নিং মেসেজ শুধু বার্তা নয়।

এটা এক ধরনের সামাজিক চুক্তি।

তুমি আমাকে ফুল পাঠাবে।

আমি তোমাকে সূর্য পাঠাব।

তারপর আমরা দুজনেই নিশ্চিন্ত হব যে মানবসভ্যতা এখনও টিকে আছে।

একসময় ভাবতাম, পৃথিবী সূর্যের আলোয় চলে।

এখন বুঝেছি, পৃথিবী চলে গুড মর্নিং মেসেজে।

কারণ সূর্য একদিন না উঠলেও মানুষ হয়তো মানিয়ে নেবে।

কিন্তু সকাল সাতটা পর্যন্ত যদি কোনো গ্রুপে একটি গুড মর্নিংও না আসে, তখন মনে হয় সভ্যতার কোথাও একটি বড় সমস্যা হয়েছে।

তাই এখন সকালে ঘুম ভাঙলে আমি জানালা খুলে সূর্য দেখি না।

আগে হোয়াটসঅ্যাপ খুলি।

কারণ সূর্য উঠেছে কি না, সেটা পরে জানা যাবে।

কিন্তু "🌹🌹Good Morning🌹🌹" এসেছে কি না, সেটা জানা জরুরি।

আর যদি কোনোদিন দেখি একটি গুড মর্নিংও আসেনি, তখন সত্যিই ভয় পাই।

মনে হয়, পৃথিবীতে কিছু একটা অস্বাভাবিক ঘটেছে।

কারণ আমাদের দেশে অনেক কিছু বন্ধ হতে পারে।

বাস বন্ধ হতে পারে।

ট্রেন বন্ধ হতে পারে।

অফিস বন্ধ হতে পারে।

কিন্তু গুড মর্নিং মেসেজের স্রোত বন্ধ হওয়া প্রায় অসম্ভব।

সেই কারণেই আজও আমার বিশ্বাস—

সূর্য প্রতিদিন ওঠে কি না জানি না, কিন্তু গুড মর্নিং মেসেজ প্রতিদিন উঠবেই।

Comments

Popular posts from this blog

অপেক্ষার স্টেশন ও এক কাপ চা

অপেক্ষার স্টেশন ও এক কাপ চা মধ্যবিত্তের জীবন, অপেক্ষা এবং ভালোবাসার গল্প প্রথম অধ্যায় ভোর পাঁচটা পঁয়তাল্লিশ ঘড়ির অ্যালার্ম বাজার আগেই অনির্বাণের ঘুম ভেঙে যায়। বহু বছরের অভ্যাস। এখন আর অ্যালার্ম তাকে জাগায় না, শরীরটাই সময়ের আগে বুঝে যায়— আরও একটা দিন শুরু হয়েছে। কিছুক্ষণ চুপচাপ শুয়ে থাকে সে। পাশের ঘর থেকে বাবার শুকনো কাশি ভেসে আসে। রান্নাঘরে মায়ের হাঁড়ি-পাতিলের শব্দ। উঠোনে কলের জল ভরার আওয়াজ। এই শব্দগুলোই তার প্রতিদিনের সকাল। জানালাটা খুলতেই ভোরের ঠান্ডা হাওয়া মুখে এসে লাগল। দূরে রেললাইনের দিক থেকে একটা লোকাল ট্রেনের হুইসেল ভেসে এল। পূর্ব আকাশে তখন আলো ফুটতে শুরু করেছে। পাড়ার দু-একটা বাড়ির দরজা খুলছে, কোথাও ধূপের গন্ধ, কোথাও চায়ের কেটলিতে প্রথম জল চাপানোর শব্দ।  আয়নার সামনে দাঁড়াল অনির্বাণ। সাদা শার্টটা আগের রাতে ধুয়ে শুকিয়েছে। কলার একটু পুরোনো, হাতার কাছে রং উঠে গেছে। তবু যত্ন করে ইস্ত্রি করা। সরকারি অফিসের গ্রুপ-ডি চাকরিতে মানুষ ধনী হয় না, তবে জামাকাপড় পরিষ্কার রাখার অভ্যাসটা এখনও যায়নি। আলমারির ওপর রাখা পুরোনো হাতঘড়িটা হাতে পরল সে। ঘড...
🚉 মাধবপুর স্টেশন লোকাল ট্রেনের জানালা দিয়ে দেখা এক মধ্যবিত্ত জীবনের নীরব প্রেম, সংগ্রাম, দায়িত্ব, আত্মসম্মান এবং মানুষের গল্প। 📖 শুরু থেকে পড়ুন ১১ প্রকাশিত অধ্যায় ২ প্রধান চরিত্র ∞ অনুভূতির যাত্রা 📖 উপন্যাস সম্পর্কে 'মাধবপুর স্টেশন' কোনো রূপকথার প্রেমের গল্প নয়। এটি মধ্যবিত্ত মানুষের বাস্তব জীবনের কাহিনি। প্রতিদিনের লোকাল ট্রেন, সরকারি অফিস, সংসারের দায়িত্ব, বাবা-মায়ের প্রতি কর্তব্য, চাকরির সংগ্রাম এবং নীরবে জন্ম নেওয়া ভালোবাসার এক মানবিক উপাখ্যান। অর্ণিবান ও নন্দিতার গল্পের পাশাপাশি এখানে উঠে এসেছে সমাজের কঠিন বাস্তবতা, মানুষের বিচার, আত্মসম্মান, বন্ধুত্ব এবং সেই সব সম্পর্ক, যাদের কোনো নাম নেই—তবু তারা জীবনের সবচেয়ে সত্যি সম্পর্ক। 📚 প্রকাশিত অধ্যায় অপেক্ষার স্টেশন ও এক কাপ চা ভোরের স্টেশন, গোপাল কাকুর চায়ের দোকান, আর প্রতিদিনের নীরব চোখাচোখি—এই সাধারণ মুহূর্তগুলোই ধীরে ধীরে এক অসাধারণ সম্পর্কের সূচনা করে। 📖 সম্পূর্ণ পড়ুন অফিস নামের আরেক সংসার সরকারি অফিস শু...

নন্দিতার নীরবতা

পঞ্চম অধ্যায় প্রতিদিন ভোরে স্টেশনের সেই ছোট্ট চায়ের দোকানে যে মেয়েটিকে দেখা যায়, তার নাম নন্দিতা । বয়স চব্বিশ-পঁচিশের বেশি নয়। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। চাকরিটা পেয়েছিল অনেকের তুলনায় বেশ অল্প বয়সেই। পাড়ার লোকজন বলত— — "মেয়েটার ভাগ্য ভালো।" নন্দিতা শুধু মৃদু হেসে যেত। মানুষ সাফল্য দেখে। সেই সাফল্যের পেছনে কত রাতের ঘুম হারিয়ে গেছে, কত ভোর বই খুলে শুরু হয়েছে, কত পরীক্ষার হল থেকে বুক ধড়ফড় করতে করতে বেরিয়েছে—সেসব কেউ দেখে না। চাকরিটা পাওয়ার দিনটা শুধু তার নিজের ছিল না। সেদিন যেন পুরো সংসার একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বেঁচেছিল। বাড়িতে বাবা আছেন। মা আছেন। একজন বড় দাদা।বৌদি আর ছোট্ট ভাইপো ঈষান... আর দিদির বিয়ে হয়ে গেছে। সংসারের সবচেয়ে নিশ্চিত আয় এখন নন্দিতার বেতন। তাই বাড়িতে কেউ খুব একটা তাড়া দেয় না তার বিয়ের জন্য। মুখে অবশ্য সবাই একই কথা বলে— — "ভালো ছেলে পেলে তখন দেখা যাবে।" পাত্রপক্ষ আসে। চা-জলখাবার হয়। কথাবার্তাও এগোয়। কখনও কখনও বিয়ের দিন-তারিখ নিয়ে ইঙ্গিতও পাওয়া...